কালাম আবুল আজাদ (স্বাধীন), নোয়াখালী প্রতিনিধি: প্রকাশ্যে ধুমপানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করার বিধান থাকলেও বিগত এক যুগ অতিবাহিত হওয়ার পরেও নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় অথবা জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রকাশ্যে ধূমপানের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক জরিমানাসহ লক্ষনীয় কোন ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য যে, তামাক সেবনে স্বাস্থ্যের ক্ষতির দিক বেশি হওয়াতে মাননীয় প্রধামমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ঢাকায় ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়নের সম্মেলনে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করে সুরক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু নিয়মিত অভিযান না হওয়াতে অথবা সাদা-মাঠা দুই / একটা অভিযান পরিচালনা করলেও প্রধানমন্ত্রীর এ প্রত্যয় উপেক্ষিত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে নোয়াখারীর অভিজ্ঞ সুশিল মহল থেকে কথা আসছে। এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একাদিক গবেষণা মতে, সারা বিশ্বে করোনাভাইসারে মৃত্যুর ৭০ % এর বেশি পুরুষ। ভারতের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ পার্থ প্রমিত বোস ডয়চে ভেলেক বলেছেন, “ যারা ধুমপান করে তাদের ফুসফুস এমনিতেই দূর্বল”এবং ইটালীও একই তথ্য দিয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয় বলে করোনার পাদুরভাব শুরু প্রাকালে ডাক্তারগণ জানিয়েছেন, যাদের বয়স ৬০ / ৬৫ বছরের উর্ধ্বে এর মধ্যে যারা পূর্ব থেকেই মুধপান করে আসছে তাদের হার্ট অত্যন্ত দূর্বল হওয়াতে মৃত্যুবরণ করছে বেশি। তা জানা স্বত্তে¡ও, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন সমন্বয়ে এখনও কেন হচ্ছে না প্রকাশ্যে ধূমপানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমান অভিযান ? । প্রকাশ্যে ধুমপানে জরিমানা ৫০ টাকা থেকে ২০০৮ সালে আইন সংশোধন করে ৩০০ টাকা জরিমানা বিধানের আওতায় দোকানদার ও ব্যবস্থাপকদের রাখা হলেও প্রশাসন থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমান অভিযান না থাকায়, এই সুযোগে এবং আইন সম্পর্কে সচেতন সৃষ্টি না করাতে নোয়াখালীতেও প্রকাশ্যে হাট-বাজার, বাস টার্মিনাল, চায়ের দোকান,জজ কোর্ট প্রাঙ্গন,পার্ক স্পর্টে, এছাড়াও, এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদ এবং সরকারি-কর্মকর্তা কর্মচারীরা অফিস কক্ষে সিগারেট এবং এর পোড়া অংশ রাখার স্ট্রে টেবিলের উপর রেখে প্রকাশ্যে ধুমপান করার ফলে, ক্যান্সারসহ ৬ টি মারাত্বক রোগ, করোনার জিবাণু বহণ করছে এবং এশ্রেণীর দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ মৃত্যুবরণ করছে বেশি। প্রকাশ্যে ধুমপানের এমন জরিমানা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন ধুমপায়ী ও সিগারেট ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাতে জরিমানার বিষয়ে তাদের জানা নেই বলে জানিয়েছেন, সিগারেট পুলিশ, প্রশাসনের বড়-বড় অফিসারগণ, ডাক্তার এমনকি সাংবাদিকরাও পান করে প্রকাশ্যে, তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে এমন অনেক আইন আছে প্রশাসনের বড় কর্তারা পালন না করার কারণে আইন ও জরিমানা বাতাসে উড়ে এবং বাস্তবায়নও নেই !। আরও এক তথ্যসূত্রে, তামাক ও তামাকজাতদ্রব্যগুলোর উৎপাদনকারি এমনকি সিগারেট কোম্পানীগুলোর উপজেলায় ধুমপায়ি ডাক্তারদের হাতে দামি সিগারেট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী পাওয়ার সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে উপজেলাগুলোতেও ধুমপানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা হওয়ার অন্যতম কারণ এবিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ জেলা কর্মকর্তা জনাব বিপ্লব কুমার মোদক জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে ধুনপানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমান অভিযান জেলা সিভিল সার্জন অফিস কর্তৃক করবে । অন্য দপ্তরের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। আইন থাকা সত্তে¡ও কেন প্রকাশ্যে ধুমপানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ নিয়মিত ভ্রাম্যমান অভিযান করা হয় না ? এমন প্রশ্নে জেলা সিভিল সার্জন জনাব মোঃ মাসুম ইফতেখার বলেন, এটি জরুরি, এবিষয়টি আপনি পূর্বেও অবহিত করেছেন। তাছাড়া তামাকের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের এখন সম্পূক্তা রয়েছে, জরিমানা জেলা প্রশাসক ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে করতে পারে, সিভিল সার্জন করতে পারে না। সিভিল সার্জন অফিস থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযানের কেন লিখিত আবেদন নেই ? । এমন প্রশ্নে সিভিল সার্জন বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সামনে তামাক নিয়ন্ত্রণ বৈঠকে নিয়মিত ভ্রাম্যমান অভিযান করার বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন । একই প্রশ্নে উত্তরে বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম প্রকাশ্যে ধুমপানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান অভিযান হয়েছে বলা হলেও, দুঃখজনক সত্য যে, সরকারি বিধি মোতাবেক জরিমানাসহ নিয়মিত ভ্রাম্যমান অভিযানে না করার ফলে, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আশে-পাশে এমনকি সরকারি -বেসরকারি প্রতিষ্ঠাসহ অত্র জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে স্বাস্থ্যের ক্ষতিকারক মরণকাশক ধুমপান, তামাক ও তামাকজাতদ্রব্যের ব্যবহারকারি ব্যক্তি এবং আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবসায়িদে। র সংখ্যা দিনের পর বৃদ্ধিতে দূর্ষিত হচ্ছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ গড়ার পেছনে বসচেয়ে বেশি অবদান রাখার জেলা নোয়াখালীর ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ