ডেস্ক এডিটর
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।

সোমবার (১৯ মার্চ) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ আদেশ দেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্রকরে আজ সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পুরো এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল ১৮ মার্চ খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এবং খালেদার জিয়ার জামিনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে বৃহস্পতিবার লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করে।

এতে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট যেসব গ্রাউন্ডে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছে সেসব ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করার সুযোগ নেই।

গত বুধবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চ্যালেঞ্জ করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল আবেদন করতে বলেছিলেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনআদেশ রোববার পর্যন্ত স্থগিত করে লিভ টু আপিল করতে বলেন।

গত ১২ মার্চ সোমবার হাইকোর্ট থেকে চার মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেয়ার পরের দিনই আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে তা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। ১৩ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার জজ আদালত আবেদন দুটি পরের দিন শুনানির জন্য রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

এ ছাড়া এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর চার আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।