_62112_20-02-16_Noakhalinews-photo
কোম্পানীগঞ্জ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা নেই, মানবাধিকার নেই। আইনশৃঙ্খলা সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আইনের শাসন বলতে কিছুই নেই। ভাষা আন্দোলনের শিক্ষা থেকে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের সব ধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। 
 
৬৬’সালে তরুণ ব্যারিস্ট্রার ৬৭’সালে লন্ডনে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান আন্দোলন নামে সংগঠন গঠন করি। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে লন্ডনের ইষ্ট পাকিস্তান হাউজ থেকে আমার সম্পাদনায় একটি পত্রিকা বের করতাম। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পর লন্ডন থেকে আমরা ৪জন তরুণ ব্যারিষ্টার লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে বেগম মুজিবের সাথে সাক্ষাত করি। তখন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ ইত্তেফাক’র সম্পাদক মরহুম তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বেগম মুজিবকে নিয়ে একদিন পর রাত ১টায় আমার বাসায় এসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটি পরিচালনার জন্য ওকালতনামা দেন। সে মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আমি অন্যতম কৌশুলী(আইনজীবি) ছিলাম। এখন ইতিহাস বিকৃতির প্রতিযোগীতা চলছে। আমাদের দেশের তরুণরা, আগামীদিনের দেশের চালিকা শক্তি যুবকরা সঠিক ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ এবং পাঠ্যপুস্তকে যুবক ও তরুণদের সামনে বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপন করা হচ্ছে।
 
ব্যারিস্ট্রার মওদুদ শনিবার সকালে বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির কাউন্সিলে প্রধান অতিথি বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছিল। ৯ম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় সেদিন ভাষা শহীদদের কারো কারো গায়ের রক্তে আমার শরীরের পোষাকও রক্তে রক্তাক্ত হয়েছিল। সে থেকে আমার রাজনীতির শুরু। সে সময়ে এক মাস জেল খেটেছিলাম। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের স্বাধীকার আন্দোলনের সূচনা ঘটেছিল।
 
৭৫’এ এক দলীয় শাসন কায়েমের পর থেকেই এদেশে রাজনৈতিক সংকট আরম্ভ হয়। সিপাহী জনতার আন্দোলনে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর হৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন। এখন আবার ৭৫’পূর্বের জায়গায় দেশ চলে গেছে। গণতন্ত্রকে আওয়ামীলীগের রাহুগ্রাস মুক্ত করতে হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা হারানোর পর তাদের সকল ভূলভ্রান্তির জন্য তারা অনুতপ্ত হবে। তিনি অবিলম্বে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্র শূণ্যতা দূর করতে সব দলের অংশগ্রহনমূলক একটি গ্রহনযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবী জানিয়ে বলেন, তাহলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন হবে।
 
১৯মার্চ জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌর কাউন্সিলকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে তিনি বলেন। নোয়াখালী জেলা কমিটি পূর্নাঙ্গ নেই বিধায় জেলা কাউন্সিল হবে। অন্যান্য সব কমিটি যেভাবে আছে সেভাবেই বলবৎ থাকবে। সুবিধাজনক সময়ে নিষ্ক্রিয়, সুবিধাভোগী, অন্য দলের ঘাপটি মারা নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে হামলা মামলার শিকার দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের স্ব-স্ব যোগ্যতা অনুযায়ী পদ পদবী দিয়ে দলের আরো শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে। আগামী ২৯মার্চ আসন্ন ইউপি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ব্যারিষ্টার মওদুদ বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে ৫সদস্যের “ইউপি নির্বাচন চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন কমিটি” আগামী ৫দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।