Boro Dan Pic-02 (Chatkhil)

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর উত্তরের জনপদ চাটখিল উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন কয়েক হাজার কৃষক।

উপজেলায় সরকারিভাবে ধান ক্রয় কেন্দ্র না থাকায় নির্ধারিত দামের অর্ধেক দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এতে কৃষি ঋণ নিয়ে অল্প পূঁজির কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে ধান চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চাটখিল উপজেলায় বিআর-২৮ জাতের বোরো ধান কিছুটা চিটা হলেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হয়েছে। প্রায় ২২ হাজার কৃষক ৮ হাজার হেক্টর জমিতে উফসী ও হাইব্রীড জাতের বোরো ধান চাষ করেন।

Boro Dan Pic-03 (Chatkhil)

এরমধ্যে উফসী এক হাজার চারশ হেক্টর জমিতে এবং হাইব্রীড ৬ হাজার ছয়শ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল উফসী ৫ হাজার ৬১৮ মেট্টিক টন এবং হাইব্রীড ৩২ হাজার ৩৪০ মেট্টিক টন।

সরকার বোরো ধান প্রতি কেজি ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করেছে ২২ টাকা। অর্থ্যাৎ প্রতি মণ ধানের ন্যায্য মূল্য ৮৮০ টাকা। এ ধান উৎপাদন করতে একজন দিনমজুরের পারিশ্রমিক পাঁচশ টাকা, হাল, সেচ, কীটনাশক, সার প্রয়োগ, ধান কাটা ও মাড়াই সহ অন্যান্য খরচ দিতে হয়েছে।

এতে প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে ৮০০ টাকা। কিন্তু এখানে সরকারিভাবে ধান ক্রয় কেন্দ্র না থাকায় কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত বোরো ধান বাধ্য হয়ে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি মণ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়।

স্থানীয় শংকরপুর গ্রামের কৃষক আনিসুল হক, সাধুরখিল গ্রামের কৃষক আমিন উল্যা জানান, তারা ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ নিয়ে বোরো ধান চাষ করেছেন। বর্তমান পাইকারী বাজারে ধানের দামের চেয়ে তাদের উৎপাদন খরচ পড়েছে দ্বিগুন। এতে করে তারা ঋণের বোঝা সহ আর্থিকভাবে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, এখানে সরকারিভাবে ধান ক্রয়কেন্দ্র না থাকায় কৃষকগণ বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন না করলে আগামীতে বোরো ধান চাষ হুমকির মুখে পড়বে।

নিজস্ব প্রতিনিধি/নোয়াখালীর পাতা ডেস্ক/১৯ মে ২০১৬