2016_04_10_20_47_25_i2Kwupdf3hlDLTPBiXikGrFCMQ89PN_original

দেশের শতকরা ৫৭ ভাগ শিশু শ্রমিক মারধরের শিকার হয়। আর গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে শতকরা ৬৬ ভাগ মানসিক নির্যাতনের শিকার ও ৭ শতাংশ ধর্ষণের শিকার হয়। এর দায় শিকার করে নিয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, ‘সরকারের একার পক্ষে শিশুদের দেখভাল করা সম্ভব নয়। তবে শিশুশ্রমিক নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রোববার (১০ এপ্রিল) সিরডাপ মিলনায়তনে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের শতকরা ৮০ ভাগ শিশুশ্রমিকের কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের ওভার টাইমের সুযোগ নেই। এছাড়া ২২ শতাংশ শিশুশ্রমিক বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত আছে। ৩৫ শতাংশ শিশুশ্রমিকের জন্য কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের খাবার কিংবা সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। এবং গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে শতকরা ৬৬ ভাগ মানসিক নির্যাতিত ও ৭ শতাংশ ধর্ষণের শিকার হয়।

ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ৬০০ শিশু শ্রমিকের তথ্য নির্ভর এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের শিশুশ্রমের পেছনে অন্তর্নিহিত কারণ এবং এর সম্ভাব্য প্রতিকার খুঁজতে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির পক্ষে গবেষণাটি করেছে দ্য নিলসেন কোম্পারি।

চুমকি বলেন, ‘আমাদের দেশে ৪৫ শতাংশ শিশু। এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। সরকারের একার পক্ষে শিশুদের দেখভাল করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শিশুদের নিয়ে কাজ করা দেশের বিভিন্ন সংস্থাসহ পিতা-মাতার সহায়তা দরকার।’

পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো শিশুকে যেন ভবঘুরে হতে না হয় এবং রাতে ভালো পরিবেশে ঘুমাতে পারে সে লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ শুরু করেছে।

এদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ১১ বছর বয়স থেকেই শিশুরা শ্রমে নিয়োজিত হয়। শতকরা ৭৯ ভাগ শিশুশ্রমিক স্কুল থেকে ঝরে পরে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই। এছাড়া মাসে এক হাজার ৪০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রমিকরা দৈনিক ১০ ঘণ্টার উপরে কাজ করছে।

গবেষণায় অংশ নেয়া শতকরা ৫২ ভাগ শিশুর বয়স ছিল ১৫-১৮ বছর, ৪৪ ভাগ ছিল ১০-১৪ বছরের এবং ৪ ভাগ শিশুর বয়স ছিল ৫-৯ বছর।

শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রেখে কোনো দেশ মধ্যম আয়ের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন সরকারের এই মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

দ্য নিলসেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনাম মাহমুদের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির মহাসচিব মিজানুর রহমান খান লিটন, নির্বাহী পরিচালক আ ফ ম মতিউর রহমান প্রমুখ।