আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তিন ধরনের ব্যক্তির মনোনয়ন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে দলের যেসব জেলা, উপজেলা ও থানা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড করেছেন তারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সঙ্গে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায়ও তারা অংশ নিতে পারবেন না। কোনো রাজাকার ও তার সন্তান নৌকা প্রতীক পাবে না। আর পূর্বে দল থেকে বহিষ্কৃত কাউকে দলে এনে মনোনয়ন দেয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই তিন শর্ত মেনে ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাই করার নির্দেশনা দিয়েছেন। হাইকমান্ডের এ নির্দেশনা ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে প্রার্থী বাছাইয়ে এমপিদের হস্তক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। তৃণমূলের অনেক নেতা অভিযোগ করেছেন, এমপিরা একক প্রার্থী হিসেবে কার নাম প্রস্তাব করতে হবে তা চাপিয়ে দিচ্ছেন। তাদের কথা না শুনলে পরবর্তীতে বিপদে পড়ার আশংকাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।

জানা গেছে, ইউপি প্রার্থী বাছাইয়ে যারা প্রভাব খাটানোর ন্যূনতম চেষ্টা করবেন তাদের পৌরসভা নির্বাচনের মতো কালোতালিকাভুক্ত করে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে ২৫ এমপির বিরুদ্ধে প্রার্থী বাছাইয়ে যোগ্যদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে। দলের সাত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা গত দুই সপ্তাহ ধরে বিষয়টির তদন্ত করছেন। এমপিদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে এবার তৃণমূলের বাছাই কমিটিতে তাদের রাখা হয়নি। দলের জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাই করছেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে যোগ্য একক প্রার্থীর তালিকা পাঠাতে তৃণমূলে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। চিঠিতে আওয়ামী লীগের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের একক প্রার্থীর তালিকা দ্রুত চূড়ান্ত করে দলীয় প্যাডে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

জানা গেছে, ইউপি এলাকায় একক প্রার্থী বাছাইয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগকে। একদিকে একাধিক প্রার্থী অন্যদিকে এমপিদের সুপারিশ- এই দুই চাপের কারণে অধিকাংশ জেলায় একক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে একাধিক প্রার্থীর নাম তারা প্রস্তাব করতে পারবেন। একক প্রার্থী ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শতভাগ নিখুঁত প্রার্থী দিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে যেসব জেলা, উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড করেছেন তারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হবেন কিংবা দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড করবেন তাদের বিরুদ্ধে দলের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে।