সংবাদ শিরোনাম
নোয়াখালী , ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চাটখিলের পশ্চিমাঞ্চলে মাদকের থাবায় ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ

বিশেষ প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে মাদকের ভয়াবহ থাবায় ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছে অভিভাবক মহল।
জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের খিলপাড়া ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তি গ্রামগুলোতে বর্তমানে হাত বাড়ালের পাওয়া যাচ্ছে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ও মারন নেশা ইয়াবা। বলতে গেলে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় ওই অঞ্চলে বর্তমানে ইয়াবার পাইকারী বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাটি লক্ষীপুর সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা সহজেই লক্ষীপুর থেকে চাটখিলের পশ্চিমাঞ্চলে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছে। প্রতিদিন সন্ধার পর মটর সাইকেলের মহড়া দেখলেই বুঝা যায় এখানকার মাদক ব্যবসায়ীরা কতো বেপরোয়া। এরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না। সরেজমিন গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খিলাপাড়া, শংকরপুর, শংকরপুর-কাড়িহাটি সড়ক, ইসলামিক মিশন এলাকা, রহিমগঞ্জ বাজার, রামনারায়নপুর, ডুবাই মার্কেটসহ আশপাশের এলাকা বর্তমানে মাদক সেবী ও বিক্রেতাদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি শংকরপুর-কড়িহাটি সড়কে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রন নিয়ে দুই গ্রæপের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি হয়। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সন্ধার পর পথঘাট মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। মাদকসেবীরা নেশার টাকা জোগাড় করতে জড়িয়ে পড়ে চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সাথে। পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের মাঝে মধ্যে গ্রেফতার করলেও অনেকে থানা থেকে টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর চাপের মুখে অনেক সময় মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশ গ্রেফতার করে জেলে পাঠালেও নরমাল ধারায় বা মাদকদ্রব, ইয়াবা কম দেখিয়ে পাঠায়। ফলে দু’এক দিনের মধ্যেই তারা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এই মাদক ব্যবসায়ীদের বাধা দিলে তারা সাধারণ মানুষের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে অনেক। সহজেই মাদক বা ইয়াবা পাওয়ায় উঠতি বয়সের তরুন যুবকরা নেশার প্রতি আসক্তি হয়ে পড়ছে। অনেকের শিক্ষা জীবনও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক শংকরপুর এলাকার এক বাসিন্ধা জানান, আমরাতো তাদরে কাছে অসহায় হয়ে পড়েছি। পুলিশের কাছে বললেও কোন লাভ হয়না। পুলিশ ধরে আবার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। তাছাড়া আমরা প্রতিবাদ করে আরো হুমকির মুখে থাকি।
খিলপাড়া ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য জানান, আমার এলাকায় লক্ষীপুর থেকে এসে মাদক ব্যবসা করে কিছু যুবক। তাদের বাড়ী ঘর লক্ষীপুর। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদেরকে হুমকি দেয়। তাছাড়া তাদের কাছে অস্ত্র থাকে। প্রতিবাদ করায় আমার এলাকায় অনেক নিরপরাধ লোক তাদের হামলার শিকার হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই আবার ক্ষমতাসীন সরকারী দলের লোক পরিচয়ে চলে। ফলে আমরা অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে।
খিলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, মাদক ব্যবসা নিমূল করতে হলে আগে প্রশাসনকে সৎ হতে হবে। এবিষয়ে মানুষকে আরো সচেতন করতে হবে। কারা মাদক ব্যবসা করে প্রশাসন সবই জানে কিন্তু গ্রেফতার করে না। কারণ তাদের রাজনৈতিক পশ্রয় দাতা আছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জিরো ট্রলারেন্স বললেও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন সেই নির্দেশনা মানছেননা। তাছাড়া মাদক ব্যবসা নির্মূলের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও প্রশাসন অভিযান চালাতে হবে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে চাটখিল থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলামের সাথে আলাপ করতে থানায় গিয়ে পাওয়া যায়নি।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*